দেশের দুর্গম, প্রত্যন্ত ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দুর্বল টেলিযোগাযোগ সেবার সমস্যা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। যেসব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতা অপর্যাপ্ত কিংবা ইন্টারনেট ও অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সেবার মান সন্তোষজনক নয়, সেসব এলাকার পরিস্থিতি যাচাই করে নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করার উপায় খুঁজবে সংস্থাটি।
সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় প্রস্তাবিত গবেষণার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্তারিত গবেষণা প্রস্তাব তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে গবেষণা প্রস্তাব তৈরি করে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে।
প্রস্তাবিত গবেষণায় দেশের কোন কোন এলাকায় টেলিযোগাযোগ সেবা দুর্বল, কোথায় নেটওয়ার্কের আওতা অপর্যাপ্ত এবং স্থানীয় মানুষের কী ধরনের সংযোগ প্রয়োজন—এসব বিষয় চিহ্নিত করা হবে।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছানোর সম্ভাব্য উপায় খতিয়ে দেখা হবে। কারণ এসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যয় বেশি হলেও ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে কিছু এলাকায় নেটওয়ার্ক থাকলেও সেবার মান ও প্রাপ্যতা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারছে না।
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল কমিশনের সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বড় শহরের বাইরের মানুষের জীবনমান ও উন্নয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য টেলিযোগাযোগ সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মানসম্মত মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ অপারেটরদের জন্য অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় না।
প্রস্তাবিত গবেষণায় অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দুর্গম ও কম সেবাপ্রাপ্ত এলাকায় কীভাবে মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উপযোগী পদ্ধতি নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
গবেষণায় এসব এলাকার ভৌগোলিক বিস্তৃতি, যোগাযোগের চাহিদা এবং সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য পদ্ধতি মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি যেখানে ব্যবসায়িক লাভের সম্ভাবনা কম, সেখানে নেটওয়ার্ক স্থাপন ও সেবা পরিচালনা কীভাবে বাস্তবসম্মত করা যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি টেলিযোগাযোগ সংযোগবিষয়ক মহাপরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিতে প্রত্যন্ত ও কম সেবাপ্রাপ্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তরঙ্গভিত্তিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান মনোনীত একজন মহাপরিচালক গবেষণা কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। কমিটিতে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, স্পেকট্রাম সেবা, অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ এবং আইন শাখার প্রতিনিধিরা থাকবেন। চেয়ারম্যান মনোনীত একজন কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই সমীক্ষার মাধ্যমে কোথায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং কীভাবে সেসব এলাকায় টেকসইভাবে সেবা পৌঁছানো সম্ভব, সে বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরির প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে গবেষণা শেষ হওয়ার আগে নির্দিষ্ট এলাকায় কখন নেটওয়ার্ক উন্নত হবে বা কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

