চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশ করা হচ্ছে। সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে এসব পরীক্ষার্থীর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ফল ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
যেভাবে জানা যাবে ফল
অনলাইনে ফল দেখতে শিক্ষার্থীদের https://eduboardresults.gov.bd অথবা https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় তথ্যের পাশাপাশি রোল ও নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ফল দেখা যাবে।
এ ছাড়া মুঠোফোন থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে খুদে বার্তা পাঠিয়েও ফল জানা যাবে।
পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই
গত ২ জুলাই দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ হয়।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ করা হবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি বা হাতে লেখা কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে সচল মুঠোফোন নম্বর জমা দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে তা জানানো হবে।
পরবর্তী ধাপে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখে যে বিষয়গুলোর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করাতে চান, সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দুই পত্রের বিষয় হলে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ অপশনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে ফি পরিশোধের আগ পর্যন্ত নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
অন্যদিকে, একবার ফি পরিশোধ হয়ে গেলে নির্বাচিত কোনো বিষয় আর বাতিল করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

