জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা দিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিলের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই তহবিল। একই সঙ্গে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে আলাদা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ রোববার, ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস ২০২৬। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে নানা সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষ্য, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
যুব উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠিত হয়, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি পায়। প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবকর্মসংস্থান বাড়াতে এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁরা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আয় এর চেয়েও বেশি। যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দনও জানান তিনি।
প্রযুক্তি ও দক্ষতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এখন বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে যুবসমাজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর আশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমেই আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিবৃতির সার্বিক বার্তায় দেখা যায়, সরকার তরুণদের শুধু প্রশিক্ষণ নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ঋণ, প্রশিক্ষণ ও স্টার্টআপ তহবিলের সমন্বিত উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে তরুণদের কাছে পৌঁছায় এবং কর্মসংস্থানে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে তহবিল বিতরণের স্বচ্ছতা ও সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে নতুন উদ্যোক্তারা এর সুফল বেশি পাবেন।

