শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করা হতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কার্যালয়ে পোশাক কারখানার মালিকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া মালিকেরা বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে রোববার দেশের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। শ্রমিকেরা কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় এসব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই সোমবার থেকে কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু হবে বলে মালিকেরা আশা করছেন। তবে এরপরও শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে দিনের পর দিন কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে।
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
রোববারও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড় অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা দেয়।
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার পোশাকশিল্পের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ৩১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, রোববার এই বোর্ড ঘোষণা করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রম আইন সংশোধনের পর প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী, পরবর্তী মজুরি পর্যালোচনার সময় নির্ধারিত রয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর।
এ অবস্থায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতি।

