বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে এখন থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে (পিটুপি) টাকা লেনদেন করা যাবে। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। এর ফলে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন একটি সেবা।
নতুন এ ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করেই টাকা পাঠাতে পারবেন। এ জন্য প্রাপকের মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাংক হিসাব নম্বর টাইপ করার প্রয়োজন হবে না। কিউআর কোড স্ক্যান করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এর আগে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরকে (পিএসও) ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ মোবাইল অ্যাপে এ সুবিধা যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে কিউআর কোডে লেনদেনের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
তাঁদের ভাষ্য, ‘এই উদ্যোগ দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নগদ টাকাবিহীন লেনদেন বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
লেনদেন আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ, কম খরচে ও দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে কিউআর কোডভিত্তিক সমন্বিত লেনদেনব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ নগদ টাকাবিহীন করার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই মধ্যে দেশের সব এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের ক্ষেত্রে কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সব ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান, পিএসপি ও পিএসওকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর কোড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

