চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকেই তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক ও শ্রমিক, দুই পক্ষের প্রতিনিধিরাই এই সময়সীমায় একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বোর্ডের সদস্যরা। শিল্পাঞ্চলে টানা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মধ্যেই এই সমঝোতার খবর এল।
আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নতুন গঠিত বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদস্যরা ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের বিষয়টি জানান। তবে নতুন ন্যূনতম মজুরি কত হবে, সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কথা তুলে ধরে তাঁরা বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। এর সঙ্গে কালো তালিকাভুক্তির প্রথা বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বন্ধের দাবিও রয়েছে তাঁদের।
শ্রমিকদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে গত ১ নভেম্বর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের নতুন বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপর আজই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হলো। সভার দিনেই বোর্ডের চেয়ারম্যান বদলের ঘটনাও আলোচনায় ছিল।
চলমান অসন্তোষের কারণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। দফায় দফায় সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভের মুখে শত শত কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
মজুরি কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের এই ঐকমত্য পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। গতকাল রাতে মালিকদের সংগঠনের নেতারাও আভাস দিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার ইঙ্গিত মিললে অসন্তোষ কমতে পারে। তবে মজুরির অঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকদের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে আন্দোলন থামবে কি না।

