হাইকোর্টের রায় অমান্য, একতরফা রায়, বিচারাধীন রিট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়াই গেজেট প্রকাশসহ একাধিক আইনি জটিলতা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে ঢাকার একটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপদ। বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি যে রায় দিয়েছে, তা হাইকোর্টের আগের রায় অনুযায়ী অবৈধ আর্জি সংশোধনকেই বৈধতা দিয়েছে। এছাড়া শুনানিতে নির্বাচন কমিশন অংশ নেয়নি, এমনকি পরে কোনো আপিলও করেনি। এতে একতরফা রায়ের অভিযোগ উঠেছে।
আরো জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলেও তা পাওয়ার আগেই এবং দুটি পৃথক লিগ্যাল নোটিশকে উপেক্ষা করে রাত ১০টায় হঠাৎ গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখযোগ্য যে, স্থানীয় সরকার বিভাগ মামলার পক্ষভুক্ত ছিল না এবং রায়ে এ বিভাগের প্রতি কোনো নির্দেশনাও নেই। এখন শপথ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার বিভাগকে বিবাদী করে একটি রিট আবেদন করেছে- যা এখনও বিচারাধীন।
এদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত এক মামলায় হাইকোর্টের আগের রায়কে আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আর্জি সংশোধনের আবেদন খারিজ করেছে। ফলে দুই ভিন্ন রায়ে ট্রাইব্যুনালের অবস্থানে দ্বিমত দেখা দিয়েছে- যা আইনি বিশ্লেষকদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
এছাড়া মেয়র পদে আসীন ব্যক্তির মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে- মেয়াদ আছে কি না কিংবা কতদিন মেয়াদ রয়েছে, তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি।
নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠিতে বলা হয়েছিল, “কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিতর্কিত রায়, বিচারাধীন রিট, স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা না থাকা এবং পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ স্পষ্টভাবে আইনি জটিলতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে- আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোকে যদি বৈধ ধরা হয়, তবে এ ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে না।
শপথ না হওয়ায় নগর ভবন বন্ধ করে রেখেছে মহানগর বিএনপি। এতে সিটি কর্পোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জনসাধারণ দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব আইনি জটিলতা নিরসন হলেই শপথ গ্রহণের কোনো বাধা থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরাই আন্দোলনের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট থেকে তৈরি প্রতিবেদন।

