চট্টগ্রামে ৩৯ জন প্রভাবশালীর দখলে থাকা ৩২০ কোটি টাকা মূল্যের ৩২ একর সরকারি জমি উদ্ধারে ১৬ বছর পর কঠোর অভিযান শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নগরের উত্তর হালিশহর থেকে উত্তর কাট্টলী পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তিন দিনব্যাপী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানে সাগরপাড়ঘেঁষা মিনি স্টেডিয়াম এলাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট- হুছাইন মুহাম্মদ, ফারিস্তা করিম এবং মো. মঈনুল হাসান। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তায় সোমবার ও মঙ্গলবার পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ২ জুন সমকালে প্রকাশিত ‘৩২০ কোটি টাকার জমি ৩৯ প্রভাবশালীর দখলে’ শীর্ষক প্রতিবেদন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টার নির্দেশ। প্রভাবশালীদের তদবির ব্যর্থ করে সরকার অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাউবো চট্টগ্রাম বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকা এসব জমি উদ্ধার করে পিলার ও কাটাতার দিয়ে সীমা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করা হবে। এরপর সেখানে বনায়ন করা হবে।
কারা এই দখলদার?
জমিগুলো ১৯৭২ সালে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। গত ১৬ বছর ধরে হালিশহর ও পাহাড়তলী এলাকায় ৩২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে কাভার্ডভ্যান ইয়ার্ড, গাড়ির গ্যারেজ, ডেইরি ফার্ম ও কলোনি। এই সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে দখলদাররা প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
জমি দখলে থাকা প্রভাবশালীদের মধ্যে রয়েছেন:
- সাবেক এমপি দিদারুল আলম: ৭ একর জায়গাজুড়ে কাভার্ডভ্যান ও স্কেভেটার ইয়ার্ড
- সাবেক প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জু: আড়াই একর পাউবো জমি দখলে
- চসিকের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম: ট্রলি ডিপো ভাড়া দিয়ে বছরে ১৮ লাখ টাকা আয়
- এরশাদ উদ্দিন: ১২টি ঘর নির্মাণ করে বছরে ১৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায়
- গোলাপুর রহমান: কাভার্ডভ্যান ইয়ার্ড থেকে বছরে ৪৫ লাখ টাকা আয়
- আকরাম সিদ্দিক চৌধুরী: স্কেভেটার ইয়ার্ড ভাড়া দিয়ে বছরে ১২ লাখ টাকা আয়
- নুরুল হুদা চৌধুরী: ৭ একর জমি দখলে
- ছালাউদ্দিন ইউছুফ: ৪ একর জমিতে মিনি স্টেডিয়াম ও ইয়ার্ড
এছাড়া আরাফাত হোসেন, মো. জুয়েল, মা. মোশারফ, কোরবান আলী, মোহাম্মদ আলী, লিটন মিয়া, ইলিয়াছ মিস্ত্রী, আব্দুল জলিল, জামাল আহম্মদ, মো. রনি, মো. জনি, মো. নাছির, মো. হোসেন, মো. মনির, মো. ওয়াহিদ, নিজাম উদ্দিন মামুন, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, জাহাঙ্গীর, মীর আহাম্মদ, জাকের মিস্ত্রী, জানে আলম বুলু ও হাজী মো. শাহজাহানসহ আরও অনেকে এসব সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
কত কী গড়ে উঠেছে?
এই জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে:
- ১৩টি বিশাল কাভার্ডভ্যান ইয়ার্ড
- ১০টি গাড়ির গ্যারেজ ডিপো
- ৩টি ট্রলি ইয়ার্ড
- ৩টি ডেইরি ফার্ম
- ৪টি কলোনি
সরকার বলছে, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি পুনরুদ্ধার করে তা জনস্বার্থে কাজে লাগানো হবে।

