রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে ভারতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে ফেরেন। রাজধানীতে পুনরায় সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন এবং আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অস্ত্র সংগ্রহে নেমে পড়েন তিনি। তবে ঢাকায় কালোবাজারে অস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায়- সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়া জেলায় কম দামে অস্ত্র কিনতে যান সুব্রত। সেখানে তার সঙ্গে যোগ দেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ।
এই তথ্য উঠে এসেছে হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্রে, যা ৭ জুলাই আদালতে জমা দিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। মামলায় সুব্রত বাইন ওরফে ফাতেহ আলী, মোল্লা মাসুদ, এস এম শরীফ ও আরাফাত ইবনে নাসির- এই চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ আনা হয়েছে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায়। সাক্ষী করা হয়েছে ১৩ জনকে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে সুব্রত দেশে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠনের কাজে জড়িত হন। ঢাকার কালোবাজারে অস্ত্রের উচ্চমূল্য ঠেকাতে কুষ্টিয়া সীমান্তে অবস্থান নিয়ে কম দামে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি।
২৭ মে ভোরে সেনাবাহিনী তাদের কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে, ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় এস এম শরীফের বাসায় তারা নিয়মিত বৈঠক করতেন এবং অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখতেন। ওই দিন বিকেলে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি ও একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করে। পরদিন এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। গুলিগুলো ছিল তাজা এবং পিস্তলগুলো উচ্চমূল্যের বিদেশি অস্ত্র। দেশে ঢোকার পর সুব্রতের প্রধান লক্ষ্য ছিল অস্ত্র সংগ্রহ ও বাহিনী পুনর্গঠন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে এবং তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। সে সময় তারা সেভেন স্টার গ্রুপ নামের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতেন।
হাতিরঝিল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্র জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে, সুব্রত বাইনের আইনজীবী বাদল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

