ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর সূত্রাপুরের কাগজিটোলা এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর যুবক রিপন (৩৫), তার স্ত্রী চাঁদনী বেগম (৩০), দুই ছেলে তামিম (১৬), রোকন (১৩) এবং দেড় বছরের শিশু কন্যা আয়েশা।
সবার চিকিৎসা চলছিল শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি কাউকেই। দগ্ধ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে একে একে প্রাণ হারান পরিবারের পাঁচ সদস্য।
১৪ জুলাই প্রথম মারা যায় ছোট্ট আয়েশা। দুই দিন পর চলে যায় দুই ভাই- তামিম ও রোকন। সন্তানদের মরদেহ নিয়ে গ্রামে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান মা চাঁদনী। তাকে তার বাবার বাড়ি, সামুদাবাদ গ্রামে দাফন করা হয়, আর দুই ছেলেকে দাফন করা হয় যুগিরহাওলা গ্রামের বাড়িতে। সেদিন রাতেই আসে রিপনের মৃত্যুসংবাদ- তিনি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১২ জুলাই বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয় দুই ছেলের কবরের পাশে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের বাসিন্দা রিপন জীবিকার খোঁজে সাত বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমান। ছোট ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে চলছিল সংসার। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিন বছর আগে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে। স্বপ্ন ছিল সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার কিন্তু গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ তার সব স্বপ্ন ছাই করে দেয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক। প্রতিবেশীরা জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তারা। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন রিপনের বৃদ্ধা মা জরিনা বেগম। একমাত্র ছেলের পাঠানো টাকায় চলত তার জীবন। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের একসঙ্গে হারিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ, কান্নাও যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যের এমন মৃত্যু অত্যন্ত করুণ। আমরা সরকারি সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

