সম্প্রতি রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে গেরিলা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোড ব্যবহার করেন। শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেই তারা ঢাকায় সমবেত হয়ে শাহবাগ মোড় দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করেন। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ গ্রহণ করা হয়।
সভায় প্রশিক্ষণ দেন মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন। ভাটারা থানায় দায়ের হওয়া মামলার জবানবন্দিতে গ্রেফতারকৃত চালক ও স্থানীয় লীগ নেতাকর্মী মিলন শিকদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার (১০ আগস্ট) আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বেচ্ছায় তিনি জবানবন্দি দেন, যা ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে মিলন জানান, সোবহান গোলন্দাজ নামের এক আওয়ামী লীগ সমর্থক তাকে ওই সভায় নিয়ে যান। সভায় ২০০ থেকে ৩০০ নেতাকর্মী সরাসরি ও অনলাইনের মাধ্যমে অংশ নেন। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন সুমাইয়া জাফরিন, যিনি হ্যান্ড মাইক হাতে পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
গ্রেফতারের পর মিলন কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে শনিবার উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেহাদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, মিলন জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে বুধবার মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে গ্রেফতার করে ৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে বলেন, আমার নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। কনভেনশন হলে আগেই সবকিছু পরিকল্পিত ছিল। আমি শুধু আমার স্বামীর সঙ্গে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কী হচ্ছিল তা জানতাম না।
পুলিশ সূত্র জানায়, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত এবং তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুমাইয়া ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেরিটরি ম্যানেজার হিসেবে টঙ্গী গাজীপুর শাখায় কর্মরত। তিনি ও তার স্বামী মেজর সাদেকুল হক পূর্বাচলের সি-সেল রিসোর্টের কাটাবন রেস্টুরেন্ট এবং মিরপুর ডিওএইচএসে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এছাড়া উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে প্রিয়াংকা সিটির একটি ফ্ল্যাটেও গোপন বৈঠকের তথ্য পাওয়া গেছে।
আইএসপিআর ১ আগস্ট জানায়, ১৭ জুলাই অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাকে উত্তরা থেকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ সত্য পাওয়া গেছে। পূর্ণ তদন্ত শেষে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মণ্ডল ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮ জুলাই একটি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মিলে ৩০০-৪০০ জন অংশ নিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

