বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনের (‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪’) তথ্য অনুযায়ী দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জনগোষ্ঠী এখনও শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। এই সংখ্যা মূলত স্কুলবহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত, যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
রবিবার সচিবালয়ে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের সচিব এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য এই জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান ও দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৬৩ জেলায় ২৫,৮১৫টি শিখন কেন্দ্রে ৮,০২,৫৩৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ২,৪৬,৪৯৬ জন শিক্ষার্থী মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং অবশিষ্ট শিক্ষার্থীরা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেছেন। এছাড়া ২০২২ সালে শেষ হওয়া মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৪ জেলার ২৪৮টি উপজেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪৪.৬০ লাখ মানুষ সাক্ষরতা অর্জন করেছে।
কক্সবাজার জেলায় বিদ্যালয়-বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্প চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে। এতে ১৩টি অকুপেশনে প্রি-ভোকেশনাল কোর্সে ৬,৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে সাক্ষরতার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগ ‘স্কিলফো’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ইতোমধ্যে ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা’ শীর্ষক নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নিরক্ষর নারী-পুরুষদের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা, জীবিকায়ন দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা ও সচিব বলেন, “প্রতিটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার নিশ্চিত করা এখন একান্ত জরুরি।” এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্যও এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
এভাবে বাংলাদেশ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিরক্ষরতার হার কমানোর পথে এগোচ্ছে। তবে দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের জন্য আরও তৎপরতা, নতুন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সম্পদ বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনা হলে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

