বরগুনায় ডেঙ্গু রোগী আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, মে ও জুন মাসে দৈনিক ৮০–৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও আগস্টে তা কিছুটা কমেছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে সংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৩ জন। অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৮ জন—বেতাগী ও আমতলীতে ২ জন করে, বামনায় ৪ জন, তালতলীতে ৫ জন এবং পাথরঘাটায় ৭ জন।
বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭,০৩৭। এর মধ্যে ৬,৯০৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন এবং পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া জেলার অন্তত ৪০ জন রোগী দেশের অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিশেষ করে বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা উপজেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, “এ বছর ডেঙ্গুর প্রকৃত মৌসুমের আগেই আক্রান্তের হার বেড়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টি এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবের কারণে রোগীর সংখ্যা আবার বাড়ছে। আক্রান্ত হ্রাসে সকলের সচেতনতা অপরিহার্য।”
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ জানান, “সেপ্টেম্বরের শুরুতে আশা করা হয়েছিল রোগীর সংখ্যা কমবে, কিন্তু এখন হাসপাতালগুলোতে ৮০–১০০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ পর্যাপ্ত আছে। তবে সিবিসি পরীক্ষার রিএজেন্টের সামান্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”

