মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডের আঘাতে ৩৫ বছর বয়সী আবুল কালামের মৃত্যু দেশে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সরকারের ঘোষিত ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা, যা বর্তমান সোনার দামে প্রায় আড়াই ভরি সোনার সমান। যদিও সোনার দাম বিশ্ববাজারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই এই হিসাব আরো কমে যেতে পারে।
অর্থনৈতিকভাবে হিসাব করলে- আবুল কালামের বয়স ৩৫ বছর, বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের গড় বয়স ৬০ বছর। যদি তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন, বাকি ২৫ বছরে তার সম্ভাব্য আয় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারত; যদি ৫% হারে আয় বৃদ্ধি পেত, তাহলে তা হতো প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণটি বাস্তবিক অর্থে তার জীবনের মূল্য থেকে অনেক কম।
আইন অনুযায়ী, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা হলে শ্রম আইন প্রযোজ্য হয়। অন্যদিকে, ফ্যাটাল অ্যাক্সিডেন্ট অ্যাক্ট ১৮৫৫ অনুযায়ী, অন্যের অবহেলা বা ত্রুটির কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করা সম্ভব। আবুল কালামের ঘটনায় রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা সংবিধান বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে কিনা তা উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে দাবী করা যেতে পারে।
প্রতিবছর এমন বহু ঘটনা ঘটে, যেখানে পরিবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পায় না। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে রাসেল সরকারের মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় তিনি ৩৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পান। অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন শাহজাহানপুরে শিশুর মৃত্যুতে ২০ লাখ টাকা, ওয়াসার ম্যানহোলে মৃত্যুতে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল।
আবুল কালামের দুই সন্তান ও স্ত্রী বর্তমানে জীবিকা এবং মানসিক ভাঙন সহ্য করছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা দিয়ে সমাধান হলো কি না, তা এখনও বিতর্কের বিষয়।

