অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)–এর খসড়া চূড়ান্ত করতে শেষ দফার আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব প্রধান উপাদান অন্তর্ভুক্ত এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিন বুধবার ৭ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দিনের বৈঠক হবে সিলেটে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম। ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, পিসিএর খসড়া চূড়ান্ত করতে ঢাকা–ব্রাসেলসের এই বৈঠককে শেষ দফার আলোচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। আলোচনা শেষে আগামী জুনের মধ্যে চুক্তি সইয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে উভয় পক্ষের। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারই চুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার দায়িত্ব নেবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫০ বছরের বেশি সময়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শুরুতে ইইউ ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর প্রথম সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে অর্থনীতি, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে পিসিএ চুক্তির আলোচনায় বসে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে।
গত বছরের এপ্রিলে ব্রাসেলসে পিসিএর খসড়া চূড়ান্ত করতে প্রথম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও তিনবার আলোচনা হয়েছে। এবার অনুষ্ঠিত বৈঠককে শেষ দফার আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন উপস্থিত ছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাসেলস থেকে ঢাকায় পিসিএর খসড়া পাঠানো হয়। মানবাধিকারকে ভিত্তি ধরা এই চুক্তিতে সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা–সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

