বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয় দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে থাকা তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে এতদিন এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সব দায়িত্ব পালন করবেন। এই বিধান অনুসারে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। তখন থেকেই তিনি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গঠনতন্ত্রের একই ধারার উপধারা ৩ কার্যকর হয়। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। এই বিধানের কারণেই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই বিএনপি পরিচালিত হয়ে আসছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। এ কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

