অনলাইন পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চালডালের কর্মীরা বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকশ কর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ হাজার ৮০০ কর্মীর বেতন বকেয়া রয়েছে। অনেক কর্মী কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার পাশাপাশি পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে তা ফেরত পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
কর্মীদের দাবি, বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বারবার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করে রাজপথে নেমেছেন।
চালডালের কর্মীদের এই আন্দোলন এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় কয়েক মাস ধরে বেতন সংক্রান্ত অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে যশোর থেকে ঢাকায় এসে একদল কর্মী চালডালের বনানী কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া চালডালের সাবেক সহকারী পরিচালক (অপারেশনস) সাইফুল হাসান তুষার জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তার বেতন অনিয়মিত হয়ে যায়। পরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের জন্য তাকে ৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেই চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।
তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে বকেয়া মূল বেতনের মাত্র ১০ থেকে ১৪ শতাংশ পরিশোধের প্রস্তাব দেয়। তবে কর্মীরা অন্তত ৬০ শতাংশ অর্থ দ্রুত পরিশোধ এবং বাকি অর্থ এক মাসের মধ্যে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
কর্মীদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার অর্থ পরিশোধের নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পাওনা পরিশোধ হয়নি।
চালডালের কর্মীদের বেতন নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগে মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটির যশোর কার্যক্রমের কর্মীরাও বেতন বকেয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ করেছিলেন।
কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন আটকে থাকায় অনেকেই আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। পরিবার পরিচালনা, ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তারা জানান।
কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে চালডালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নজিরবিহীন তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বেতন বকেয়া থাকার কারণে কর্মীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারছে। কর্মী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, যেসব পাওনা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। এরই মধ্যে অনেক কর্মীর পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং চলমান প্রক্রিয়ায় আরও অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনেক কর্মী ইতোমধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে পাওনা গ্রহণ করেছেন।
দেশে অনলাইন কেনাকাটা ও পণ্য সরবরাহ খাতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি চালডাল। তবে কর্মীদের বেতন ও আর্থিক দায় নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন পরিশোধ, কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্মীদের আস্থা নষ্ট হলে তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও সুনামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন কর্মীদের বকেয়া পাওনা কত দ্রুত এবং কীভাবে পরিশোধ করা হয়, সেটিই চালডালের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

