সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের দেশভিত্তিক গড় বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ (IQ) তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তেমন উজ্জ্বল নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ–এর তথ্যে দেখা গেছে, ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫০তম স্থানে রয়েছে এবং দেশের গড় আইকিউ স্কোর ৭৪.৩৩।
আইকিউ মূলত মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা পরিমাপের একটি সূচক। এটি সাধারণভাবে বিশ্লেষণক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দ্রুততা এবং যুক্তিভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। যদিও আইকিউ পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, নির্দিষ্ট কোনো একক সূত্রে এটিকে নির্ধারণ করা হয় না।
তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিনের বিভিন্ন গবেষণার ওপর ভিত্তি করে। ২০২২ সালে প্রকাশিত এই তালিকায় দেশভিত্তিক গড় আইকিউ স্কোরের পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্স ক্যাপিটাল ইনডেক্স (ICI) এবং প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (PISA)–এর ফলাফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপান, যেখানে গড় আইকিউ ১০৬.৪৮। খুব কাছাকাছি তাইওয়ান (১০৬.৪৭) এবং সিঙ্গাপুর (১০৫.৮৯) রয়েছে। প্রথম ছয় অবস্থানই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দখলে। এতে হংকং, চীন ও দক্ষিণ কোরিও আছে।
এরপরের অবস্থানগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো উঠে এসেছে। বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, লিচেনস্টাইন ও জার্মানি শীর্ষ দশে জায়গা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই তালিকার প্রথম দশে স্থান পায়নি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তালিকায় ভারত ১৪৩তম (আইকিউ ৭৬.৭৪) এবং পাকিস্তান ১২০তম (আইকিউ ৮০) অবস্থানে। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে—১০৩তম অবস্থান এবং গড় আইকিউ ৮২-এর বেশি। মিয়ানমার, ইরাক, থাইল্যান্ড, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের ওপরে অবস্থান করছে।
সবচেয়ে কম স্কোর রয়েছে নেপাল–এ, যেখানে গড় আইকিউ মাত্র ৪২.৯৯। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৯তম, রাশিয়া ৩৫তম, এবং ইউক্রেন ৫৭তম স্থানে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণভাবে আইকিউ ৮৫–১১৫ হলে তা গড় বা স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা হিসেবে ধরা হয়। ১৩০ বা তার বেশি স্কোর অর্জনকারীরা উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হন। আর যদি আইকিউ ১৬০ ছাড়িয়ে যায়, তবে তাকে ‘জিনিয়াস’ বা ব্যতিক্রমী প্রতিভা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

