কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখা একটি চিঠির শেষ লাইনের বেদনাই বাস্তবে ধরা দিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে। অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের সেই চিঠির কথা তুলে ধরেছেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি সাদ্দামের লেখা চিঠির একটি ছবিও যুক্ত করেন।
শাওন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম চিঠিতে লিখেছিলেন—“মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না—এইটাই কষ্ট।” তিনি লেখেন, ছেলেটা আজ তার বাবার কোলে উঠেছে। এরপর সংশোধন করে লেখেন, কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার ৯ মাস বয়সী ‘মৃত’ ছেলেটাকে প্রথমবারের মতো কোলে নিয়েছে।
পোস্টে আরো বলা হয়, সংবাদে দেখা গেছে—মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীর মরদেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সাদ্দামের উদ্দেশে শাওন লিখেছেন, তিনি যেন কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন এবং অভিশাপ দেন সেই মানুষরূপী অমানুষদের, যাদের কারণে আজ তাকে এমন দৃশ্য দেখতে হয়েছে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি একটি প্রশ্নও তোলেন। শাওন লেখেন—এই চিঠির কি কোনো জাদুঘরে স্থান হবে, মাননীয় উপদেষ্টাদের দল?
উল্লেখ্য, স্ত্রী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও নয় মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়ায় সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই শেষবারের মতো তাদের মরদেহ দেখেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাফটকে আনা হলে কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ মিনিটের জন্য ছয়জন স্বজনসহ সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।
পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তার শিশুসন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হতাশাজনিত কারণে সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ হওয়ায় মরদেহ কারাফটকে এনে শেষ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

