সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেতন বৃদ্ধি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেলের উদ্যোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, জনপ্রশাসন সংস্কার ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কেবল বেতন বাড়ালে তা দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ আরও বাড়াতে পারে। হঠাৎ পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরও সাধারণ মানুষের সেবার মানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। টিআইবি একে ‘দুর্নীতির প্রিমিয়াম’ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া সরকারি কর্মচারীরা যদি জবাবদিহি বজায় না রাখে, সেবায় অনীহা দেখায় এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে কেবল আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সাধারণ করদাতাদের প্রতি অন্যায়ের সমতুল্য হবে।
এছাড়া নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর। অতীতের ধারা অনুযায়ী, সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি সাধারণত দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতের কর্মী বা দিনমজুরদের আয় অনেক সময় অপরিবর্তিত থাকে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে নিম্নআয়ের মানুষদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাবে এবং বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
টিআইবি মনে করিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির আগে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীর সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সরকারকে মনে রাখতে হবে, আমলাতান্ত্রিক তোষণ নয়, বরং জনস্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনীতির সক্ষমতা যাচাই ও প্রশাসনিক সংস্কার সম্পন্ন না করে হঠাৎ পে-স্কেল চালু করা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

