ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে নির্দেশনা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার, প্রার্থী, তাঁদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ব্যালটে সিল দেওয়ার গোপন কক্ষে কোনো ছবি তোলা যাবে না।
গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই আগের পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নির্বাচন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডির নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল নিষিদ্ধ থাকলে সাংবাদিকদের কাজে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা তুলে ধরেন এবং পরিপত্র সংশোধনের দাবি জানান। তখন সিইসি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ইসি সচিব। তিনি জানান, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ইসি সচিব বলেন, ভোটার ও সংবাদকর্মীদের প্রধান প্রশ্ন ছিল—তাঁরা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁরা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার খবর নেই। তফসিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা এখনো শনাক্ত হয়নি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশ বিলম্ব হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যত ব্যালট কাস্ট হবে, সব ব্যালট গণনা শেষ করেই ফল ঘোষণা করা হবে। ভোটারের সংখ্যার পার্থক্যের কারণে কোনো কোনো কেন্দ্রে সময় একটু বেশি লাগতে পারে, তবে সেটিকে বিলম্ব বলা যাবে না।
এ সময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়েও তথ্য দেন তিনি। ইসি সচিব জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি, ২২৩ জন। এই সংখ্যা ২৫০ জনে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা, সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

