সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বড় অংশই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইনে রূপ পাবে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য সংসদে তোলা হবে না। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পেরোলেই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
আগামী ১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অধিকাংশ অধ্যাদেশ সেই স্বয়ংক্রিয় বাতিলের পথেই যেতে দিতে চায় বলে জানা গেছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ৫৫৯ দিনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। গড়ে প্রতি ৪.২০ দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এখন সেগুলো এক মাসের মধ্যে আইন করতে হলে দিনে গড়ে সাড়ে চারটি করে অধ্যাদেশ পাস করতে হবে—যা বাস্তবতায় বেশ কঠিন।
সূত্রগুলোর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে বহু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। কিছু অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোন কোন অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়া প্রয়োজন, তা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে যাচাই করতে বলা হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই যেগুলো আইন করার সিদ্ধান্ত হবে, সেগুলোর খসড়া প্রস্তুত করা হবে।
তবে যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপ পাবে, সেগুলোও হুবহু আগের মতো থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নীতিগত অবস্থান বিবেচনায় সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এখন প্রশ্ন উঠছে—সব ১৩৩টি অধ্যাদেশই কি সেই ‘আশু প্রয়োজন’-এর আওতায় ছিল?
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট-সংক্রান্ত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি ও নির্দিষ্টকরণ আইন সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে অন্যান্য অনেক অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে সরকার চাইলে অধ্যাদেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে সংসদে উপস্থাপন করতে পারে—যেগুলো আইনে রূপ দেবে এবং যেগুলো দেবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড় বাধা থাকার কথা নয়।
সব মিলিয়ে, ১৩৩ অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ এখন সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া অধিবেশন তাই শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

