প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন সরকারি বাসা বরাদ্দ পেতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ২৭ জন মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং ১৩ জন প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের সবাই বাসা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছেন এবং প্রক্রিয়াটি এখন অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এখনো অন্তত আটজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার উপদেষ্টা বাসা বরাদ্দের আবেদন করেননি। আবার কেউ কেউ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে মৌখিকভাবে বাসা চাইলেও তা সরকারি আবাসন পরিদপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা আগের মতোই মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাংলোতে উঠবেন বলে জানা গেছে।
যমুনা ছাড়ছেন ড. ইউনূস
সূত্র জানায়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে দেবেন। তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে উঠবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি সরকারি বাসভবনে উঠতে চান, তাহলে আপাতত যমুনাই হবে তাঁর জন্য নির্ধারিত ঠিকানা।
অন্তর্বর্তী সরকারের বেশির ভাগ সাবেক উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সরকারি বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। যারা এখনো ছাড়েননি, তাঁরা শিগগিরই ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, সাবেক উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে তেমন সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। তাঁরা কোনো পেনশন সুবিধাও পান না। বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, সবাই চলতি মাসের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন।
কত বাড়ি প্রস্তুত?
জানা গেছে, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য রয়েছে ২৪টি বাংলো এবং ১৩টি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত বাসভবন ছাড়াও আরও কয়েকটি বাড়ি রয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়ার মতো প্রস্তুত বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৩৭টি। এর বাইরেও কিছু বাড়ি মেরামত করে বরাদ্দের উপযোগী করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা-বিশেষ সহকারী রয়েছেন আরও ১০ জন।
মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও একাধিক হুইপও থাকবেন—যাঁদের আবাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
কারা এখনো আবেদন করেননি?
মন্ত্রীদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এখনো আবেদন করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ লিখিত আবেদন না দিলেও পূর্তমন্ত্রীকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে আবেদন দেননি—
-
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
-
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
-
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
-
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
-
শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন
-
আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ
তবে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
কে কোথায় বরাদ্দ পেলেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগেই মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোয় অবস্থান করছেন এবং সেখানেই থাকবেন।
অন্যান্য বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে—
-
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর – ৩৫ হেয়ার রোড
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ – ২৪ বেইলি রোড
-
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) – ৫ হেয়ার রোড
-
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন – ২৫ বেইলি রোড
-
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ – ৭ মিন্টো রোড
-
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু – ২ মিন্টো রোড
-
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী – ৫ মিন্টো রোড
-
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান – ১ হেয়ার রোড
-
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি – ৬ হেয়ার রোড
এছাড়া—
-
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা – ১ মিন্টো রোড
-
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন – ৪ মিন্টো রোড
-
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন – ৩৪ মিন্টো রোড
-
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম – ৪১ মিন্টো রোড
-
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ – ২ হেয়ার রোড
মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান পেয়েছেন বেইলি রোডে বাংলো।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গুলশানে সরকারি বাসা পেয়েছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন ধানমণ্ডিতে সরকারি বাসা।
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে তিনটি ১০ তলা ভবন, প্রতিটি ভবনে ১০টি করে—মোট ৩০টি ফ্ল্যাট।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের আবাসন বরাদ্দের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বেশির ভাগ আবাসন হস্তান্তর সম্পন্ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি বাসা বরাদ্দের এই প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক মহলেও তা আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষ করে যখন প্রস্তুত আবাসনের সংখ্যা এবং পদমর্যাদাপ্রাপ্তদের সংখ্যা প্রায় সমানতালে এগোচ্ছে।

