ঝিনাইদহে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হলে শুধু চাকরি হারিয়েই দায় শেষ হবে না; তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে কারাগারে পাঠানো হবে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জানান, দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। জনগণের জন্য বরাদ্দ অর্থের প্রতিটি পয়সার হিসাব নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। কমিশন বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা পর্যন্ত অংশের নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে তারা যেন কোনো সরকারি কাজ না পায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো দপ্তর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়ের করা হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। এ সময় বিচারক সংকট, মামলাজট এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলে সেগুলো আইনগত কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
পরে দুপুরে শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে সংবর্ধনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলে বাগ্নি রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণ এবং সন্ধ্যায় শৈলকুপা দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

