যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কবলে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে এবং বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এ পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। যাত্রা অনিশ্চিত হওয়ায় অনেক কর্মী দেশে ফিরে আসতে বা ছুটি কাটাতে সমস্যার মুখে পড়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, নতুন কর্মীর যাত্রা বর্তমানে অনিশ্চিত হলেও ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ধাপে ধাপে করা হবে। ইতিমধ্যে কাতার এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে এবং অন্যান্য দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনায় রেখেছে। যারা বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেটেছেন, তাদের রিশিডিউল করা হবে এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সকেও এমন ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি ইলেকট্রনিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে এবং কোনো ফি বা আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসি দেশগুলোতে মোট প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ এসেছে এই ছয়টি দেশ থেকে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় নতুন কর্মী পাঠানো কমতে পারে এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

