আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইমের প্রকাশিত ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’র তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান, দীর্ঘদিনের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং জাতীয় নেতৃত্বে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার প্রেক্ষাপটেই এই স্বীকৃতি এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অল্প কিছুদিন আগেও লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান। তবে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনে। সেই পরিবর্তনের ধারায় বিরোধী রাজনীতির অগ্রভাগ থেকে তিনি দ্রুত জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
প্রায় ১৭ বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় বিজয় অর্জন করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর মা, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেন। তবে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে।
টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান। প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি—এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবিলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ—যেগুলো পরে আদালতে খারিজ হয়েছে—নতুন নেতৃত্বের শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকার পর তিনি আর দেরি করতে চান না বলেও জানান।
তারেক রহমানের ভাষায়, “দেশের মানুষ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

