বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নদী-নালা ও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বড়রামপুর এলাকায় সাহাপাড়া খাল থেকে।
একই দিনে দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটির সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।
সভায় দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় বিশেষভাবে ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে এই কর্মসূচি শুরু করবেন।
এর পাশাপাশি একই সময়ে দেশের ৬৩টি জেলায় স্থানীয় পর্যায়ে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সরকারের লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা কমানো, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা।
সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
তার মতে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষি ও পরিবেশের ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
আন্তমন্ত্রণালয় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
-
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
-
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
-
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
-
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারাও অংশ নেন এবং কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত দেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের আগেই শুরু হতে যাচ্ছে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। দিনাজপুর থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, আর একই সঙ্গে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

