কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থানরত ১০টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার ভাড়ায় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি দুইটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার এ বছর তাদের বছরে ৭৭ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতার স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার ফলে এলএনজি পরিবহনের ভাড়া ত্বরান্বিতভাবে বেড়ে গেছে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যানসিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, ‘যদি যুদ্ধ আজই শেষ হয়, তবু স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরে আসতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগবে।’ গত বুধবার কাতার এনার্জি এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। উৎপাদন বন্ধের ফলে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এলএনজি কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এর প্রভাবে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের দাম ও ট্যাংকার ভাড়ার হার বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ব্রেইনচাইল্ড কমোডিটি ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক ক্লাস ডজম্যান বলেন, ‘ভাড়ার জন্য প্রস্তাবিত ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থান করছে, যাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো যায়। এর মধ্যে দুটি ট্যাংকার আগামী সপ্তাহে ইউরোপে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, এগুলো খুব দ্রুত কাতার এনার্জির নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে আসবে না।’ তিনি আরও জানান, ‘দ্রুত এবং পুরো উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে।’
ভাড়ার জন্য প্রস্তাবিত ট্যাংকারগুলোর মধ্যে অন্তত চারটি কিউ-ফ্লেক্স ধরনের—মুরওয়াব, আল সাফলিয়া, আল সুমামা এবং আল ওরাইক। প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২১০ হাজার ঘনমিটার, যা সাধারণ এলএনজি ট্যাংকারের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। সাধারণত ইউরোপ বা এশিয়ায় রপ্তানির জন্য কাতার এনার্জি এই ধরনের জাহাজ ব্যবহার করে।
অন্য ট্যাংকারগুলো দ্বৈত জ্বালানিচালিত দুই-স্ট্রোক ইঞ্জিনযুক্ত, ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার। বেশির ভাগ জাহাজ তাৎক্ষণিক ভাড়ার জন্য প্রস্তাবিত, কিছু মার্চের মাঝামাঝি থেকে পাওয়া যাবে। এ ধরনের জাহাজগুলোর নাম—মেসাইঈদ, ওয়াদি আল সাইল, আল শাখামা, আল খোওয়াইর, আল শামাল ও শ্লাইমি।
এ সপ্তাহে এলএনজি ট্যাংকার ভাড়ার হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান স্পর্ক কমোডিটিস জানিয়েছে, আটলান্টিক অঞ্চলে পরিবহনের ভাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ২ লাখ ২১ হাজার ৫০০ ডলার বেড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৫০ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই প্রবণতা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও দেখা গেছে, যেখানে ভাড়া বেড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

