মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুঁজিবাজারে আলোচিত এই সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অপব্যবহার, তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং আর্থিক অসংগতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ যাচাইয়ে ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির ভিত্তিতেই এ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ কীভাবে, কার নির্দেশে এবং কোন খাতে স্থানান্তর বা ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল পরিচালিত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ৫৫ কোটির বেশি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে। ফান্ডের অর্থ নির্ধারিত বিনিয়োগ খাতের বাইরে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রবাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিএসইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিষয়টি নিয়ে দুদকে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের দুটি মিউচুয়াল ফান্ডে অনিয়ম এবং ইউনিটহোল্ডারদের প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে করা তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নেওয়া ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে।
দুদকের চলমান অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

