দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক তাদের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও রেজাউল ইসলাম বলেছেন, গ্রাহকদের আস্থা থাকাতেই সংকটের মধ্যেও টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করা এবি ব্যাংক দীর্ঘ পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদ খান-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান এখনো দেশের ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রেজাউল ইসলাম জানান, খেলাপি ঋণের চাপ থেকে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, যা শুধু এবি ব্যাংক নয়, আরও অনেক ব্যাংকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এই সংকটকে আরও জটিল করেছে।
তবে সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যেখানে খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যয় সংকোচন এবং নতুন আমানত সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে, চলতি বছরে আরও ২০-২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ব্যাংকটির আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো পরিচালন ব্যয় কমানো। বড় শাখাগুলোর আকার ছোট করে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন গ্রাহক বাড়াতেও অগ্রগতি হয়েছে—গত বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিচ্ছে এবি ব্যাংক। বিশেষ করে এআইভিত্তিক লোন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট ঋণের পরিবর্তে এসএমই ও রিটেইল খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ব্যাংকটি। এতে ইতিবাচক ফলও মিলছে বলে জানান রেজাউল ইসলাম। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও সহায়তা পাচ্ছে এবি ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উল্লেখযোগ্য তারল্য সহায়তা পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রেখেছে।
মূলধন ঘাটতি কাটাতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনা, নতুন শেয়ার ইস্যু এবং উপশাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে ব্যাংকটির। ইতোমধ্যে ২০০টি উপশাখা খোলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে, যা কম খরচে আমানত সংগ্রহে সহায়ক হবে।সবশেষে ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্দেশে বার্তায় তিনি বলেন, কঠিন সময় অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে এবি ব্যাংক। গ্রাহকদের আস্থা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে ফিরতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

