দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি আমানতের পরিমাণে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকটির মোট আমানত ১১ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিফলন।
ব্যাংক খাতের চলমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আমানত সংগ্রহে ধারাবাহিক অগ্রগতি ব্যাংকের গ্রাহক আস্থা ও সেবার মান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তারল্য চাপে থাকা বাজারে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের সক্ষমতাকেই তুলে ধরে।
এ অর্জনকে ঘিরে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কেক কাটার মাধ্যমে সাফল্য উদযাপন করেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং নতুন নতুন পণ্য চালুর ফলে আমানত প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা এবং করপোরেট গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত সেবা প্রদানও আমানত বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমানত প্রবৃদ্ধি শুধু একটি ব্যাংকের আর্থিক শক্তিমত্তার সূচক নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার মাত্রাও নির্দেশ করে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু ব্যাংকে তারল্য সংকট ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও, যেসব ব্যাংক সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো করছে—এসবিএসি ব্যাংকের এ সাফল্য তার একটি উদাহরণ হতে পারে।
ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যাংকটিকে আমানতের পাশাপাশি ঋণ বিতরণে গুণগত মান বজায় রাখা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

