বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের চাপ বা নির্দেশনা আরোপ করতে চায় না সরকার—এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব মূল্যায়ন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, আর সরকার কাজ করবে নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে।
রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন পক্ষ—ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর প্রভাব খাটাতে আগ্রহী নয়; বরং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাই হবে মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে কর সুবিধা, প্রণোদনা এবং যৌথ তহবিল গঠনের মতো বিষয় থাকতে পারে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতের নীতিগত দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবের কারণে এখনকার সরকারকে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। তবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও মানুষের কষ্ট কমানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং খাতের নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনুকূল ব্যবসা পরিবেশের অভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ঋণ পরিশোধে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়িক ঋণের বদলে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে তারল্যের ঘাটতি না থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রেও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও ঋণ আদায়ে সমস্যা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যের অভাব নীতিনির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যাংক নির্বাহীরা জানান, বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তারা যদি এসব খাতে এগিয়ে আসেন, তাহলে তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।সব মিলিয়ে আলোচনায় উঠে আসে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতিগত স্বচ্ছতা, কার্যকর সমন্বয় এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

