রাজধানীর মতিঝিলে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার সকালে ব্যাংকগুলোর কয়েক হাজার সাবেক কর্মকর্তা একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দেন।
সকাল ১০টার দিকে দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিনা কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দাবি করেন, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মালিকানা আগের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিলেরও দাবি জানান তারা। তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান বোর্ড বৈধ নয় এবং তা পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
যেসব ব্যাংককে ঘিরে এই কর্মসূচি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। জানা গেছে, এসব ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে ঢাকায় এসে কর্মসূচিতে অংশ নেন। গত কয়েক দিনে তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন।
বিক্ষোভকারীদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল, ব্যাংকগুলোর মালিকানা আগের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়া এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর যথাযথ কারণ ছাড়াই ব্যাপক হারে চাকরিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একটি গ্রাহক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ধরনের অভিযোগও সামনে এসেছে। তাদের দাবি, কয়েক বছর আগে প্রভাব খাটিয়ে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সে সময় আগের মালিক ও বিদেশি শেয়ারধারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া পরবর্তীতে বিপুলসংখ্যক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ডাকা হলেও অনেক কর্মকর্তা এতে অংশ নেননি। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এদিকে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের মালিকানা, প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান এই বিরোধ দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

