চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দি সিটি ব্যাংক। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ৯২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬০ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল মাত্র ৬০ পয়সা।
মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে কোর ব্যাংকিং কার্যক্রম। ঋণ থেকে সুদ আয় বেড়ে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি বিনিয়োগ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় মোট আয়ে বড় অবদান রেখেছে এই খাত।
ফি ও কমিশন আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, কার্ড সেবা এবং ট্রেড-সংক্রান্ত আয়ের বৃদ্ধি এ খাতে গতি এনেছে। ফলে ব্যাংকটির মোট অপারেটিং আয় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকায়।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও দক্ষতা দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কস্ট-টু-ইনকাম রেশিও কমে ৫২ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পরিচালন দক্ষতার উন্নতি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে অপারেটিং মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে ৭৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এছাড়া খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণে প্রভিশনিংয়ের চাপ কমেছে, যা নিট মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে ইতিবাচক এই প্রবৃদ্ধির মাঝেও ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে একটি উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত না হলে এই ধারা ব্যাংকিং খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, আয় বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের গুণগত মানের উন্নয়নের সমন্বয়ে প্রথম প্রান্তিকে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে সিটি ব্যাংক, যদিও সামনে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

