দেশের বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলো আবার সচল করতে বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবেন, যা অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব কারখানার পণ্যের বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং নতুন করে ক্রয়াদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এই সুবিধা দেওয়া হবে। ঋণ হিসেবে পাওয়া অর্থ মূলত চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে দ্রুত উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা ও তাদের ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এই তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাবনাময় কিন্তু বন্ধ কারখানাগুলো কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়ে আছে, তাদের ক্ষেত্রে সহজ শর্তে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারপ্রধান সম্প্রতি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং বন্ধ শিল্প চালুর মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই এই তহবিল সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তহবিলের অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করলে নতুন করে টাকা সরবরাহ বাড়াতে হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সরকারি উৎস থেকে অর্থায়নের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে—এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিকভাবে চালু—দুই ধরনের কারখানাকেই তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী ঋণের ধরন, বর্তমান অবস্থা এবং পুনরায় চালু করতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধুমাত্র অর্থ সহায়তা নয়, বরং কাঁচামাল আমদানি, ঋণপত্র খোলা এবং ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে অর্থ পাচার বা অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে যেন কোনো দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই তহবিল দেশের শিল্পখাতে নতুন গতি আনতে পারে। বন্ধ কারখানা চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

