বাংলাদেশে সঞ্চয়ের ধরণে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে বিকাশ অ্যাপ। গত চার বছরে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৬০ লাখের বেশি সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস হিসাব খোলা হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
রাজধানীর এক বেসরকারি চাকরিজীবী রোদেলা হাসানের মতো অনেকের কাছেই আগে সঞ্চয় করা ছিল বেশ ঝামেলার কাজ। ব্যস্ততা, যানজট আর ব্যাংকে যাওয়ার ঝক্কি—সব মিলিয়ে নিয়মিত টাকা জমা রাখা সহজ ছিল না। কিন্তু বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই ডিপিএস হিসাব খোলার সুযোগ পাওয়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন ঘরে বসেই কয়েকটি ধাপে সঞ্চয় শুরু করা সম্ভব।
২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্স-এর সঙ্গে যৌথভাবে সঞ্চয় সেবা চালুর পর বিকাশ ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী আর্থিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সেবা বিস্তৃত হয়েছে।
এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারীদের অংশগ্রহণ। মোট গ্রাহকের প্রায় ৩৪ শতাংশই নারী, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘরে বসে ছোট অঙ্কে সঞ্চয়ের সুযোগ পাওয়ায় নারীদের আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৮ শতাংশ গ্রাহক ৩৫ বছরের নিচে, যা তরুণদের মধ্যেও সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
গ্রাহকদের আস্থার দিক থেকেও চিত্রটি ইতিবাচক। যাদের ডিপিএস হিসাবের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের প্রায় ৯৬ শতাংশ আবার নতুন করে সঞ্চয় শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রায় ৫৫ শতাংশ হিসাব খোলা হয়েছে অফিস সময়ের বাইরে, যা দেখায় মানুষ নিজের সুবিধামতো সময়েই আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়।
মানুষ বিভিন্ন কারণে সঞ্চয় করছে—আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা খরচ, ব্যবসা বিনিয়োগ, গৃহস্থালি পণ্য কেনা, ভ্রমণ কিংবা সন্তানের শিক্ষার জন্য। কেউ কেউ আবার ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যেও ডিপিএস খুলছেন।
এই সেবায় গ্রাহকরা সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারেন। মেয়াদ হতে পারে ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়ের সুবিধাও রয়েছে, যা অনেক গ্রাহকের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, বিকাশের এই উদ্যোগ শুধু একটি সঞ্চয় পণ্য নয়—এটি দেশের আর্থিক সংস্কৃতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তির সহজ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের কাছে সঞ্চয় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ, দ্রুত এবং হাতের নাগালে চলে এসেছে।

