দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে আবারও ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিলামের মাধ্যমে এবার আরও ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলার বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতেই ধারাবাহিকভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার, ১৩ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে এই ডলার কেনা হয়েছে।
এই নিলামে প্রতি ডলারের কাটঅফ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ এই দরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।
চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৭ কোটি ডলার কিনেছে। এর আগে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে ডলার বাজার এখনো সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে রিজার্ভ শক্তিশালী করে। আবার সংকটের সময় সেই রিজার্ভ থেকেই বাজারে ডলার সরবরাহ করা হয়। ফলে এটি মূলত মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া।
গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই প্রেক্ষাপটে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ডলার ক্রয়ের এই ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারে বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিকল্প নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডলার সংগ্রহ কার্যক্রমকে অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

