দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করতে আবারও মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার নিলামের মাধ্যমে দেশের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতি ডলারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত ডলার জমা হচ্ছে। সেই উদ্বৃত্ত ডলার বাজার থেকে তুলে নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আস্থা ধরে রাখারও একটি প্রচেষ্টা। কয়েক বছর আগেও ডলারের সংকট, আমদানি ব্যয় এবং রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মে মাসেই বিভিন্ন দফায় ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে মোট ৬২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকা এবং নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের সক্ষমতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। এতে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক লেনদেন সক্ষমতা নিয়েও আস্থা বাড়বে।
এছাড়া সামনে ঈদুল আজহা ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

