সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন না করা আমানত হিসাবগুলো আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এ উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করলে গ্রাহকদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত মাশুল বা চার্জ ছাড়াই হিসাব পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।
ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক তাঁদের আমানতভিত্তিক হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর নবায়ন করেননি কিংবা হিসাব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে চলে গেছেন। এসব গ্রাহককে পুনরায় ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি মাসের ৩ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হওয়া হিসাবধারীরা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন করলে তাঁদের হিসাব পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমানত সুবিধাগুলোও পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখাকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া হিসাবগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মোবাইল ফোন, নিবন্ধিত ঠিকানা কিংবা অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি শাখাকে গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আর্থিক খাতে আমানত ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট কিংবা বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক হিসাব বন্ধ করে ফেলেন অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করেন না। ফলে ব্যাংকগুলোর আমানতভিত্তি ও লেনদেনের প্রবাহে প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ হিসাব পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে মাশুল মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে একদিকে গ্রাহকরা বাড়তি আর্থিক চাপ ছাড়াই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন, অন্যদিকে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও লেনদেন কার্যক্রমও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমানে ডিজিটাল ও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা চলছে, তার সঙ্গে এই উদ্যোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অধিকসংখ্যক গ্রাহককে ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরিয়ে আনতে পারলে নগদ অর্থের আনুষ্ঠানিক প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক আর্থিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ব্যাংকটির এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব গ্রাহকের হিসাব সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে বা নবায়ন ছাড়াই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, তাঁদের জন্য পুনরায় ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার একটি সহজ ও ব্যয়মুক্ত সুযোগ তৈরি হলো।

