পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকির পর ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাপ কমতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় সৃষ্ট উদ্বেগ কাটিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির বিদ্যমান পর্ষদ বিলুপ্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হাতে দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ সহায়তা হিসেবে কয়েক হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে, যা লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সোমবার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে যেসব গ্রাহক নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদি আমানত ভেঙে ফেলেছেন, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করলে এসব আমানত পুনরায় সচল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং গ্রাহকরা আগের সুবিধাগুলো ফিরে পাবেন।
সাধারণ নিয়মে মেয়াদপূর্তির আগে আমানত ভাঙলে গ্রাহকরা কম হারে মুনাফা পান। তবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তারল্য সহায়তার পুরো অর্থ এখনো ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। কয়েকদিন আগে যে হারে গ্রাহকরা অর্থ উত্তোলন করছিলেন, সেই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে মেয়াদি আমানত ভাঙার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে, যা আস্থা পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি পুরো ব্যাংকিং খাত এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
সংগঠনটির মতে, বিপুল সংখ্যক গ্রাহক, বৃহৎ আমানতভিত্তি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ব্যাংকটির কার্যক্রমে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো আর্থিক খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে গ্রাহকদের একটি প্ল্যাটফর্মও ব্যাংকটির সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলে গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি, তারল্য সহায়তা এবং দ্রুত নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

