বাংলাদেশ রেলওয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির সদস্যদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে নতুন করপোরেট চুক্তি করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই চুক্তির ফলে সমিতির সদস্যরা এখন এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই বেতন হিসাব পরিচালনা, সমিতিতে অর্থ জমা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ সদস্যদের আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করবে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির সদস্যরা ইসলামী ব্যাংকে বেতনভিত্তিক হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি সমিতির হিসাবে জমা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তিও সহজে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। এতে সদস্যদের সময় ও ভোগান্তি কমবে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনি আর্থিক সেবার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম। অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সমিতির সভাপতি ও রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মজনুজ্জামান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এন এম তাওহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী মহাপরিচালক এফ এম মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, মো. রফিকুল বারি খান এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের করপোরেট চুক্তি প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি, নগদ লেনদেন কমানো এবং সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও দ্রুত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সমবায় সংগঠনের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর এমন অংশীদারত্ব বাড়লে সদস্যরা আরও উন্নত আর্থিক সেবা পাবেন। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের পরিধি বাড়বে এবং দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসাও সহজ হবে।

