আমের বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের চারটি আম উৎপাদনকারী জেলায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সুবিধা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, ফলে আমের বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ ও ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয় এমন এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আম সংগ্রহ, পাইকারি বিক্রি, পরিবহন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। ছুটির দিনে ব্যাংক বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের লেনদেনে জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ে। নতুন সিদ্ধান্ত সেই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমাবে।
এই সুবিধার আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় অবস্থিত আমের বাজারসংলগ্ন ব্যাংক শাখা ও উপশাখা শনিবার খোলা থাকবে। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলার সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলাসহ রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী আমের বাজারের কাছাকাছি থাকা ব্যাংক শাখাগুলোও সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৌসুমি কৃষিপণ্য আম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত আমের বড় অংশ রাজশাহী অঞ্চলের এসব জেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ কারণে ব্যাংকিং সেবা সচল থাকলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত অর্থ জমা দিতে পারবেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন এবং ক্রয়-বিক্রির অর্থপ্রবাহও স্বাভাবিক থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৌসুমি ফসলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা একটি কার্যকর উদ্যোগ। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, কৃষকরাও সময়মতো অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ পান। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমে এবং আর্থিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, শনিবার খোলা থাকা শাখা ও উপশাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল ও নগদ অর্থের সরবরাহ বজায় রেখে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এই সিদ্ধান্ত আম বিপণন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। দ্রুত ব্যাংকিং সেবা পাওয়ায় অর্থ লেনদেন সহজ হবে, ব্যবসার গতি বাড়বে এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াও আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে।

