বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিওন গ্রুপ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, মোবাইল আর্থিক সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভিওন গ্রুপের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাত, প্রযুক্তিনির্ভর পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে ভিওন গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তারা ইতোমধ্যে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা পিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে তারা ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।
আলোচনায় মোবাইল আর্থিক সেবা, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার কার্যক্রম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো, সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারধারী হিসেবে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
এ বিষয়ে করপোরেট কাঠামো, প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৈঠকে জানায়, দেশের আর্থিক খাতে নিরাপদ, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে সহায়ক হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, ভিওন গ্রুপের আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তাব প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ভবিষ্যতেও দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন পেমেন্ট এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারও ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনারই প্রতিফলন।
তাদের মতে, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক নীতিগত সহায়তা ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, নগদহীন লেনদেন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

