বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাহিদ রহমান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, নীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এই পদোন্নতিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে নাহিদ রহমানের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নাহিদ রহমান ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল সাইডে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রাখেন।
তার কর্মজীবনে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব বিভাগ দেশের ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, জনবল উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এসব ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী স্তর। এ পদে কর্মরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিভাগ তদারকি, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে এ ধরনের পদোন্নতি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
শিক্ষাজীবনেও নাহিদ রহমান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে ফাইন্যান্সে এমকম ডিগ্রি লাভ করেন। পরে প্রেষণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জাপান সরকারের জেডিএস বৃত্তির আওতায় রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। পাশাপাশি ডিএফআই এবং দ্য ফ্লেচার স্কুল, টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিডিএফপি বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংকিং, আর্থিক নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তার একাধিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ বিভিন্ন পেশাগত সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা তাকে একজন গবেষণামনস্ক ব্যাংকার হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নাহিদ রহমান খুলনার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আতিকুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মা সেলিমা রহমান গৃহিণী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নীতি নির্ধারণে সম্পৃক্ততা, গবেষণাভিত্তিক কাজ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে নাহিদ রহমানের এই পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত কার্যক্রম বাস্তবায়নে তার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

