দেশের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দশজন পরিচালককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আর তাদের স্থলে নতুন করে পনেরো জনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রত্যেকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ ও অব্যাহতি-সংক্রান্ত মোট পঁচিশটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিন বছর মেয়াদে এসব ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিয়েছিলেন। যে পাঁচটি ব্যাংকের পর্ষদে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক।
বেসিক ব্যাংকের পর্ষদে নতুন করে তিনজনকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারের সাবেক একজন অতিরিক্ত সচিবসহ দুজন। অগ্রণী ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিয়েছেন চারজন—এদের মধ্যে একজন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ, একজন সাবেক সচিব এবং আরও দুজন। জনতা ব্যাংকের পর্ষদে নতুন তিন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন একজন সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং সরকারের গ্রেড-১ পদমর্যাদার একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। রূপালী ব্যাংকেও তিনজন নতুন পরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিয়েছেন দুজন নতুন পরিচালক।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পর্ষদ থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বেসিক ব্যাংক থেকে বাদ পড়েছেন সরকারের এক সাবেক অতিরিক্ত সচিব। জনতা ব্যাংকের পর্ষদ থেকে বিদায় নিয়েছেন আরও দুজন, যাদের একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব। অগ্রণী ব্যাংকের পর্ষদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনজন, এদের মধ্যে দুজন সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের পরিবর্তন সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে, যেখানে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কিছু পরিচালককে সরিয়ে নতুন মুখ আনার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত যেসব ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের চাপে জর্জরিত, সেসব প্রতিষ্ঠানে পর্ষদের গঠন কতটা কার্যকর ও পেশাদার হয়, তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের গতি।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, একসঙ্গে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পর্ষদে এই ব্যাপক রদবদল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আগামী তিন বছরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।

