সরকারি মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ দুই পেশাজীবীকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
তিন বছরের জন্য দেওয়া এই নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটির পর্ষদে করপোরেট ব্যবস্থাপনা, আর্থিক প্রশাসন এবং সুশাসনের অভিজ্ঞতা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর ব্যাংকটির পুনর্গঠন, সেবার মানোন্নয়ন এবং কার্যক্রমে গতি আনতেও এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন দুই পরিচালক হলেন কে এম জাকারিয়া এবং মোহাম্মদ আহসান হাবিব চৌধুরী। তাঁরা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো, যা নীতিনির্ধারণ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকেরা।
নবনিযুক্ত পরিচালক কে এম জাকারিয়া ব্যবসা পরিচালনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী। বর্তমানে তিনি মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকে কৌশলগত প্রকল্পবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে নিও পিএসপি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বেও রয়েছেন। টেলিযোগাযোগ, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য, উৎপাদনশিল্প এবং আর্থিক সেবাখাতে তাঁর তিন দশকেরও বেশি সময়ের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অন্য পরিচালক মোহাম্মদ আহসান হাবিব চৌধুরী পেশায় একজন হিসাববিদ। তিনি বর্তমানে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান কেএম আলম অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ডিবিএলের অ্যাকসেসরিজ বিভাগের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও যুক্ত আছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের অবৈতনিক অর্থ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শীর্ষ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, করপোরেট জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা ব্যাংকের কৌশলগত পরিকল্পনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে শরিয়াহভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার মাধ্যমে। একীভূতকরণের উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, গ্রাহকসেবা উন্নত করা এবং একটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমানে ব্যাংকটির সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
এদিকে ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদার চলতি সপ্তাহেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিয়োগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রম, ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ এবং অভিজ্ঞ নির্বাহী নেতৃত্বের সমন্বয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন দুই পরিচালক ও নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।

