বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় বাগেরহাটের প্রান্তিক মৎস্যজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। লিড ব্যাংক হিসেবে এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় ১৯টি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে ৪৮ জন মৎস্যজীবীর হাতে মোট ২ কোটি টাকার ঋণ তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ ও মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনআরবিসি ব্যাংকের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের প্রধান কৃষিবিদ মো. আব্দুল হালিম। এতে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম মোল্লা, এনআরবিসি ব্যাংকের এসএমই, মাইক্রো ও কৃষি বিভাগের প্রধান মো. রমজান আলী ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বাগেরহাট মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. তরিকুল ইসলাম খান, রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ আলাউদ্দিন হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক অভিমন্যু কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে এ ধরনের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনআরবিসি ব্যাংকের এসএমই, মাইক্রো ও কৃষি বিভাগের প্রধান মো. রমজান আলী ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় একজন গ্রাহক সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থায়নের লক্ষ্য শুধু ঋণ বিতরণ নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এনআরবিসি ব্যাংক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য ৭৫০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। এ তহবিলের আওতায় ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

