দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এই স্কিমের অর্থ অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে গ্রহণ করবে। পরে তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ফলে ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ মার্জিন পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্থানীয় উৎপাদনকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো এবং চামড়া শিল্পকে পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন খাতে পরিণত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার পর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। তহবিল থেকে চামড়া শিল্পের পুরো মূল্যশৃঙ্খলে মূলধনী বিনিয়োগ ও কার্যকরী মূলধনের জন্য অর্থায়ন করা হবে।
এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং ইটিপি, ডাম্পিং ইয়ার্ড ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণে। পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারকে এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ ও ইকুইটির অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করেছে। নতুন ট্যানারি বা বর্জ্য শোধন অবকাঠামোর জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপনে ২০ কোটি টাকা এবং বিদ্যমান কারখানা আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এছাড়া ব্যবসার বার্ষিক লেনদেনের ভিত্তিতে কার্যকরী মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
মেয়াদি ঋণের পরিশোধের সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ সাত বছর। এর মধ্যে প্রথম দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে কার্যকরী মূলধনের ঋণ প্রথমে এক বছরের জন্য দেওয়া হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ঋণ পরিশোধ সন্তোষজনক হলে এটি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
তবে এই সুবিধা পেতে উদ্যোক্তাদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে সংগ্রহ করতে হবে এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ সুবিধার আওতায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) টাইপ-বি ও টাইপ-সি কোম্পানিগুলোও ঋণ পাবে।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণগ্রহীতা অথবা ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ), এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড, গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড কিংবা সরকারের অন্য কোনো বিশেষায়িত অর্থায়ন কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছে, তারা এই নতুন স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবে না।

