শিগগিরই দেশের সব ব্যাংক থেকে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ইএমআই বা কিস্তি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, এখন থেকে স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেহান আসাদ বলেন, সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুবিধা গ্রাহকরা প্রকৃতপক্ষে কতটা পাচ্ছেন, সে প্রশ্নের জবাব টেলিকম অপারেটরদেরই দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে টেলিকম খাত থেকে বড় ধরনের অবদান আসার সম্ভাবনা রয়েছে—এই খাত একাই জিডিপির প্রায় পনেরো শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন।
উপদেষ্টা আরও জানান, বৈশ্বিক পর্যায়ে টেলিকম খাতে শীর্ষ বিশটি দেশের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে টেলিকম খাতের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা আসন্ন বাজেটের পর প্রকাশ করা হবে। তার ভাষায়, এই রোডম্যাপ হবে সম্পূর্ণ পূর্বানুমানযোগ্য, ফলে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।
তিনি জানান, গত ছয় সপ্তাহে টেলিকম খাত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে, যেখানে তাদের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, টেলিকম খাতে করহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশের সামগ্রিক কর-জিডিপি অনুপাত এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে। বর্তমানে এই খাত সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজস্ব উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর কমানো হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি মাত্র বাজেটেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক ও ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তৈরি পোশাক খাতে যেভাবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ইলেকট্রনিকস খাতেও অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

