দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে বৈধ ও হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট থাকা বিদেশি কর্মীরা প্রচলিত গ্রাহক পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া অনুসরণ সাপেক্ষে দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি সংক্রান্ত একটি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ‘এ-৩’ ক্যাটাগরিসহ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করেই এই নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো বিদেশি নাগরিকের হিসাব খোলার আগে তাঁর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ সঠিকভাবে যাচাই করে নিতে হবে। মেয়াদ সচল থাকলে এবং কেওয়াইসি সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ হলে হিসাব খোলার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘এ-৩’ ক্যাটাগরিসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান ভিসায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা এখন থেকে তাঁদের বেতন ও ভাতা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, বিদেশি কর্মীদের বেতনাদি ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা জরুরি, আর এ জন্যই হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিটধারীদের হিসাব খোলার পথ সহজ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পুরোনো নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষদিকে জারি হওয়া ওই পরিপত্রে ‘এ-৩’ ভিসাধারী বিদেশিদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ ধরনের বিদেশি কর্মীদের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হয়, এবং মেয়াদ ফুরালে তা নবায়নও বাধ্যতামূলক।
অনেক ক্ষেত্রেই ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন-ভাতা অবশ্যই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দিতে হবে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিককে ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানি আইনের একটি নির্দিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতা কমে আসবে, তেমনি অন্যদিকে অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পারমিটধারীদের আর্থিক লেনদেনের ওপরও একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

